ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চার সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে, তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি কোনো হামলার ফল—সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র শত্রুপক্ষের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও ইরানপন্থী একটি গোষ্ঠী হামলার দাবি করেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন সামরিক কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) জানায়, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় বিধ্বস্ত হওয়া Boeing KC‑135 Stratotanker বিমানের উদ্ধার কাজ এখনো চলছে এবং পুরো ঘটনা তদন্তাধীন। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে দুটি বিমান অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়, অন্যটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনাটি একটি মিত্র দেশের আকাশসীমায় ঘটেছে এবং এতে শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর গুলির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। ইরাকের ওই অঞ্চলে ইরানঘনিষ্ঠ প্রতিরোধগোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি রয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সূত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করেছে, তাদের মিত্র একটি গোষ্ঠী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিমানটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বক্তব্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল বোয়িং নির্মিত কেসি-১৩৫ মডেলের একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার। উড়ন্ত অবস্থায় অন্যান্য যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য এই ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযানে—বিশেষ করে ইরানবিরোধী অভিযানে—এই ধরনের রিফুয়েলিং বিমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটিও ইরানবিরোধী চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের অংশ ছিল। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আগে জানানো নিশ্চিত করতে তাদের পরিচয় অন্তত ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ করা হবে না। সাধারণত একটি কেসি-১৩৫ বিমানে একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট এবং একজন বুম অপারেটর থাকেন। বুম অপারেটরই আকাশে অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, ইরানবিরোধী অভিযান এবং বিভিন্ন প্রতিরোধগোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। তাই এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত—তা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সূত্র: BBC — Post navigation হরমুজ প্রণালী পার হলো তুর্কি জাহাজ, ইরানের অনুমতির কথা জানালেন পরিবহনমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে ২,২০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র