RmRm

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের প্রভাবে অনেক মানুষ দ্রুত দুবাই ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে সেখানে হাজার হাজার পোষা প্রাণী মালিকহীন অবস্থায় পড়ে থাকছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রাণী সুরক্ষা সংস্থা রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস (আরএসপিসিএ) বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া অনেক মানুষের পোষা প্রাণী এখন যেন “নীরব ভুক্তভোগী” হয়ে উঠেছে। দ্রুত স্থানত্যাগের সময় অনেকেই তাদের পোষা কুকুর বা বিড়াল সঙ্গে নিতে পারছেন না।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকার মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে জরুরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। জানা গেছে, মার্চের শুরু থেকে প্রায় ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন।

আরএসপিসিএর ব্ল্যাকপুল ও নর্থ ল্যাঙ্কাশায়ার শাখার প্রধান নির্বাহী হান্না মেইন্ডস জানিয়েছেন, তিনি আগে দুবাইয়ে বসবাস করতেন এবং এমন বহু পোষা প্রাণীর দেখভাল করেছেন যাদের মালিকরা হঠাৎ করে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তার ভাষায়, অনেক প্রাণীর শরীরে থাকা মাইক্রোচিপ দেখে বোঝা যায় তারা একসময় কোনো পরিবারের আদরের সদস্য ছিল। কিন্তু মালিকরা চলে যাওয়ার পর তারা অসহায় অবস্থায় পড়ে আছে, যা উদ্ধারকর্মীদের জন্যও অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন পশু আশ্রয়কেন্দ্র জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়তে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিত্যক্ত প্রাণীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে।

পরিত্যক্ত কুকুর উদ্ধারকারী সংস্থা কে৯ ফ্রেন্ডস বলছে, অনেক মালিকই বাধ্য হয়ে তাদের পোষা প্রাণী রেখে যাচ্ছেন। সংস্থাটি নতুন করে উদ্ধার হওয়া প্রাণীর পাশাপাশি আগে থেকেই আশ্রয়ে থাকা কুকুরগুলোরও যত্ন নিচ্ছে।

এদিকে বিড়াল উদ্ধারকারী সংগঠন দুবাই স্ট্রিট কিটিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন তাদের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রের প্রায় সব জায়গাই পূর্ণ হয়ে গেছে, তবুও প্রতিদিন নতুন করে আহত ও পরিত্যক্ত বিড়াল উদ্ধারের অনুরোধ আসছে।

আরেকটি আশ্রয়কেন্দ্র দ্য সিক্স হাউন্ডস জানিয়েছে, প্রতিদিনই সাহায্যের আবেদন বাড়ছে। তবে পর্যাপ্ত কর্মী, অর্থ ও জায়গার অভাবে তারা চাপে পড়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি শহরের বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ১২টি পশুখাদ্য সরবরাহ কেন্দ্র চালু করেছে, যাতে রাস্তায় থাকা কুকুর-বিড়াল নিয়মিত খাবার পেতে পারে।

উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পোষা প্রাণী পরিত্যাগ করা আইনত অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে ধরা পড়লে কয়েক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *