মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি তেলের মজুত থেকে সরবরাহ শুরু করেছে জাপান সরকার। ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই এমন সিদ্ধান্ত নেয় টোকিও।

সোমবার (১৬ মার্চ) জাপান সরকারের প্রকাশিত সরকারি গেজেটের এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় দেশটির কৌশলগত তেল মজুত থেকে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

গত সপ্তাহে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল জরুরি মজুত থেকে ছাড়ার পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

জাপানের এই ঘোষণার কিছু সময় পরই জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বড় পরিসরে তেল সরবরাহের পরিকল্পনা জানায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজারে চাপ কমাতে সদস্য দেশগুলো মিলে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ঘোষণার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা কমেনি। গত সপ্তাহজুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একাধিকবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, সেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপান জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *