দেশের ৫৪ জেলায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভরাট হয়ে যাওয়া ও মৃতপ্রায় খালগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় একটি কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ৫৪ জেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরায় খনন করা হবে। এর ফলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম যেমন মাছ চাষ ও হাঁস পালন আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনরুদ্ধার হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে খালপাড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং দিনাজপুর জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাহাপাড়া খালটি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। খালটি পুনঃখনন করা হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, ফলে স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। স্থানীয় বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম জানান, একসময় এই খালটি ছিল এলাকার মানুষের নানা কাজে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভরাট হয়ে প্রায় বিলীন হয়ে যায়। তিনি আশা করেন, পুনঃখননের মাধ্যমে খালটি আবারও আগের মতো কার্যকর হয়ে উঠবে এবং কৃষিকাজে বড় সহায়তা দেবে। কাজী কাটনা গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। যদি তখন খালটি খনন করা থাকত, তাহলে হয়তো এত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না। খালের আশপাশে বিস্তীর্ণ জমিতে ভুট্টা, ধান, সরিষা, কলা, পেঁয়াজ ও রসুনের চাষ হয়। খালটি পুনরুদ্ধার হলে এসব ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কৃষি কার্যক্রম অনেকটাই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি তুলে জমিতে সেচ দিতে হয়, যা ব্যয়বহুল এবং বিদ্যুতের অপচয়ও বাড়ায়। খালটি সচল হলে কৃষকদের এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। কাহারোল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব অলিউর রহমান বলেন, প্রায় ৪৮ বছর আগে এই এলাকার জগন্নাথপুর অংশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও তারই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অঞ্চলে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছেন। Post navigation মুরগি লুটের অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে