বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাপন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অনিয়মিত রুটিনের কারণে অনেকেই মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সমস্যায় ভুগছেন। এর ফলে মেজাজের পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এসব সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ১. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম মানবদেহের হরমোন একটি নির্দিষ্ট জৈব ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। অনিয়মিত ঘুম, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা কিংবা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে এই স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ২. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা অন্য হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম, ডায়েরি লেখা কিংবা অল্প সময় হাঁটার মতো সহজ কার্যকলাপ মানসিক চাপ কমাতে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে। ৩. সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও বেশি চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, মৌসুমি ফল, শাকসবজি, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার রাখা প্রয়োজন। এসব খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং সামগ্রিক হরমোনের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৪. নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ শরীর সক্রিয় রাখলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, বিপাকক্রিয়া উন্নত হয় এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। এর জন্য কঠোর ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন দ্রুত হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়ামের মতো মাঝারি মাত্রার কার্যকলাপও দীর্ঘমেয়াদে উপকার বয়ে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সহজ অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে ধীরে ধীরে মানসিক চাপ কমবে এবং শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হবে। Post navigation ইফতারে ঝটপট তৈরি করুন সুস্বাদু ফলের সালাদ