মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ঘটনা দুই বছর আগে থেকেই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করেছিলেন চীনের জুয়েকিন জিয়াং। তিনি বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস পড়ান এবং ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’ (ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ইতিহাস) শিরোনামের ধারাবাহিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বের ভবিষ্যৎ ঘটনার পূর্বাভাস দেন। ২০২৪ সালের মে মাসে এক বক্তৃতায় জিয়াং বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে আসবেন এবং ভূ-রাজনৈতিক চাপের কারণে ইরানের সঙ্গে সম্মুখসমরে নামতে বাধ্য হবেন। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এই দু’টি পূর্বাভাস জানিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে

চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াংয়ের সেই অনলাইন বক্তৃতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নজর কেড়েছে। তার দুটি পূর্বাভাসই যথার্থ প্রমাণিত হওয়ায় অনেকে তাকে ‘চীনের নস্ত্রাদামুস’ বলে ডাকার শুরু করেছেন। জিয়াং মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মোট তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যেই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসটি হলো, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ঘটবে এবং রাষ্ট্রটি ধ্বংস হবে। জিয়াং ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক। তিনি অতীত ঘটনা, ঐতিহাসিক চক্র এবং ভূ-রাজনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক ঘটনা বা প্রবণতা নির্ধারণে দক্ষ। জিয়াংয়ের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কেবল সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো জড়িত হবে, যা রক্তক্ষয়ী

বিপজ্জনক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। তেহরান-ওয়াশিংটনের বিবাদ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করবে এবং বিশ্ব আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করবে। সম্প্রতি তিনি ‘ব্রেকিং পয়েন্টস’ সংবাদসিরিজে বলেছেন, যুদ্ধের অগ্রগতি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। ইরানিরা ২০ বছর ধরে এই সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, জিয়াংয়ের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রটি ধ্বংস হয় কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *