রমজানের শেষ দশ দিন সাধারণত ফিলিস্তিনিদের পদচারণায় মুখর থাকে জেরুজালেমের পবিত্র Al-Aqsa Mosque। প্রতি বছর এই সময় হাজার হাজার মুসল্লি ইতিকাফ ও বিশেষ ইবাদতের জন্য এখানে জড়ো হন। তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর প্রথমবারের মতো রমজানের শেষ দশকে আল-আকসা ও পুরনো জেরুজালেম এলাকা প্রায় পুরোপুরি মুসল্লিশূন্য হয়ে পড়েছে।

মসজিদের করিডোর ও আঙিনায় নেই আগের মতো ভিড় বা কোলাহল। যেখানে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতিতে জায়গাটি প্রাণবন্ত থাকত, সেখানে এখন নীরবতা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কারণ দেখিয়ে মসজিদ এলাকাকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে আল-আকসায় ইমামতি করা এক প্রবীণ ইমাম জানান, জীবনে এত নীরবতা তিনি আগে দেখেননি। আগে যেখানে হাজার হাজার মানুষ ইতিকাফ করতেন, এখন সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন নিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। ভেতরের স্পিকারে আজান ও নামাজ হলেও বাইরের অনেক মানুষ তা শুনতেও পান না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি নিজের বাড়ির কাছের একটি মসজিদে নামাজ পড়ান। সেখানে যখন মানুষ তাকে দেখে বলেন, “আজ আল-আকসার কণ্ঠ আমাদের মাঝে এসেছে,” তখন তার আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেন—আল-আকসা আবার কবে খুলবে? কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর তার কাছে নেই।

দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় আল-আকসায় আজান ও কোরআন তিলাওয়াত করা মাজদ আল-হাদমি নামের এক ব্যক্তি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মুসলমানদের জন্য গভীর বঞ্চনার প্রতীক। তার মতে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখানো হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের পর এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকবার আল-আকসায় জুমার নামাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের অবরোধকে সবচেয়ে কঠোর এবং দীর্ঘ সময়ের হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গভর্নরেটের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদ এলাকায় প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ, ইবাদতে বাধা, সরঞ্জাম সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মুসল্লির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের আশঙ্কা, এই নীরবতা কেবল নিরাপত্তাজনিত নয়; বরং জেরুজালেমের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *