রমজান মাসের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতিকাফ করা আবশ্যক। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের বিধানকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া বলা হয়। অর্থাৎ, কোনো এলাকার অন্তত একজন ব্যক্তি ইতিকাফ আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়; কিন্তু কেউই তা পালন না করলে সবাই গুনাহগার হবে।

পবিত্র Quran-এ ইতিকাফের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি কাবা ঘরকে মানুষের মিলনস্থল ও আশ্রয়স্থল করেছেন এবং মানুষকে সেখানে ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন—যেখানে তাওয়াফ, রুকু, সিজদা এবং ইতিকাফ করা হয় (সূরা বাকারা, আয়াত ১২৫)।

ইসলামের শেষ নবী Muhammad (সা.) জীবনে বহু নফল ইবাদত করেছেন, আবার কখনো তা ছেড়েও দিয়েছেন। তবে মদিনায় হিজরতের পর থেকে তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ পালন করেছেন।
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করে, সে দুইটি হজ ও দুইটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব পেতে পারে—এমন ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

ইতিকাফ পালনকালে মুসল্লিকে অধিকাংশ সময় মসজিদেই অবস্থান করতে হয় এবং ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটানোই মূল উদ্দেশ্য। অপ্রয়োজনীয় কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম। ইবাদতের ফাঁকে মসজিদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হাঁটাচলা করা যেতে পারে।
মসজিদের ছাদে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একটি শর্ত রয়েছে। যদি ছাদে

ওঠার সিঁড়ি মসজিদের ভেতরে থাকে, তবে ইতিকাফকারী সেখানে যেতে পারবেন। কিন্তু যদি সিঁড়িটি মসজিদের বাইরে থাকে, তাহলে সেই পথ দিয়ে ছাদে ওঠা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বাইরে দিয়ে ছাদে উঠলে ইতিকাফ ভেঙে যেতে পারে।
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত বৃদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *