ইসলামাবাদের জামিয়া হাফসা মাদরাসার প্রধান এবং ঐতিহাসিক লাল মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আজিজ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পাকিস্তান এখন পর্যন্ত দেশের কোনো প্রদেশে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অথচ আফগানিস্তানে ইমারাতে ইসলামিয়া অতীতেও এবং বর্তমানে পুরো দেশে শরিয়াহভিত্তিক আইন কার্যকর করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, পাকিস্তানের অধিকাংশ আলেম—প্রায় ৮০ শতাংশ—ইমারাতে ইসলামিয়াকে সমর্থন করেন এবং তাদের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে থাকেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে। তার অভিযোগ, পাকিস্তান একদিকে আফগানিস্তানের ইসলামী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করছে, কিন্তু অন্যদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে এগোয় না, কারণ এতে আমেরিকা অসন্তুষ্ট হতে পারে। মাওলানা আব্দুল আজিজের মতে, আফগানিস্তানে ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনে উদ্যোগ নিয়েছে। বিপরীতে তিনি বলেন, পাকিস্তানে এখনো নানা ধরনের অশ্লীলতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান সরকার কিছুসংখ্যক আলেমকে একত্র করে তাদের কাছ থেকে বক্তব্য ও খুতবা রেকর্ড করিয়েছে, যাতে তারা দেশের সামরিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। পরে সরকার দাবি করে যে দেশের আলেম সমাজ সরকারের অবস্থানের পক্ষে রয়েছে। উল্লেখ্য, মাওলানা আব্দুল আজিজ ইসলামাবাদের ঐতিহাসিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া হাফসার প্রতিষ্ঠাতার বড় ভাই ও উত্তরসূরি। তার ভাই মাওলানা আবদুর রশিদ গাজী শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও হুদুদ আইন বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় থাকার কারণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হন। সেই অভিযানে তার সঙ্গে বহু শিক্ষার্থীও প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ছিল। তৎকালীন সামরিক শাসক পারভেজ মুশাররফের নির্দেশেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। সূত্র: হুরিয়াত রেডিও Post navigation ইরানি সংবাদমাধ্যমে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নি’হ’ত হওয়ার খবর বাবার কাজ মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবেন মোজতবা খামেনি: পুতিন